আগ্রাসী ডেঙ্গু, ৫দিনে রাজ্যে পাঁচ মৃত্যু

 

বর্ষা নামতেই একের পর এক ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর মিলছে খাস কলকাতায়। গত ৫ দিনে ৫ জনের মৃত্যু রীতিমতো উদ্বেগ বাড়িয়েছে রাজ্যে, চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। ডেঙ্গু ক্রমশ বাড়ছে শহরতলি ও মফস্বল শহরগুলিতেও। ডেঙ্গু রোগীতে ভরছে হাসপাতালগুলিও। পৌরসভার তৎপরতা চোখে পড়ছে না কারোরই। এদিকে বাড়ছে প্লেটলেটের চাহিদা, প্লেটলেট সরবরাহ নিয়ে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
শনিবার পিকনিক গার্ডেনের বাসিন্দা ১০ বছরের শিশু পল্লবী দে মারা গেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে। ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দেওয়ায় কলকাতার ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ-এ ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই গত কয়েকদিন ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। শনিবার মৃত্যু হয় পল্লবীর। ডেথ সার্টিফিকেটে সেভেয়ার ডেঙ্গু এবং মাল্টি অর্গান ডিসফাংসন সিনড্রোম বলে উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে গত ২১ জুলাই দু’টি মৃত্যুর খবর মিলেছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে। রানাঘাটের বাসিন্দা উমা সরকার (৬০)’র মৃত্যু হয়েছে কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। ওইদিনই ডেঙ্গুতে মারা গেছেন দক্ষিণ দমদমের বাঙ্গুর অ্যাভেনিউয়ের বাসিন্দা রিঙ্কি রায় মজুমদার (২৬)। গত ১৮ জুলাই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল স্থানীয় একটি হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। একই দিনে কলকাতার বিসি রায় হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর, তার পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া জানা গেছে তাহেরপুরের বাসিন্দা হরিপদ মিস্ত্রি (৬৬) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৯ জুলাই ভর্তি হয়েছিলেন কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
তাহলে কি এবছর আবারও ভয়াবহ আকার নিতে চলেছে ডেঙ্গু? –উঠছে প্রশ্ন। গত বছর ডেঙ্গুর ভয়ঙ্কর দাপট দেখা গিয়েছিল। হাসপাতালগুলি ভরে উঠেছিল ডেঙ্গু রোগীতে , ডেঙ্গুতে বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরই সঙ্গে তীব্র আকাল দেখা দিয়েছিল রক্তের প্লেটলেটের। ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যু সংখ্যা নিয়ে প্রকৃত তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছিল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। এবছরও বর্ষা নামতেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর মিলেছে। ক্রমশ ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। এবার এল মৃত্যুর খবর। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এখনই সতর্ক না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাঁদের বক্তব্য, জমে থাকা জলে এডিস মশার জন্ম হয় আর বর্ষার প্রারম্ভে বংশবৃদ্ধি হয়। তাই এই সময়ে সাবধান হতে হবে। জ্বর ও বমিভাব হলেই রক্ত পরীক্ষা করতে হবে দ্রুত।
ডেঙ্গুর চিকিৎসায় রক্তের প্লেটলেটের জোগান দেওয়া জরুরি। ডেঙ্গু মারাত্মক আকার নিলেই প্লেটলেটের চাহিদা অসম্ভব বেড়ে যায়। রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অভিজ্ঞতায় গত বছর প্লেটলেট সঙ্কটের সময়ে কোনোই হেলদোল ছিল না সরকারের। স্বাস্থ্য দপ্তরও ছিল নিষ্ক্রিয়। প্রতিদিন মানুষকে প্লেটলেটের জন্য উদ্‌ভ্রান্তের মতো ছুটোছুটি করতে দেখা গেছে। প্লেটলেটের অভাবে মৃত্যু ঘটেছে বহু মানুষের। এবার চাপে পড়ে তড়িঘড়ি প্লেটলেট নিয়ে গাইডলাইন জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর।
এই গাইডলাইন অনুসারে কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নেমে গেলে তবেই রোগীকে প্লেটলেট দেওয়া হবে। প্লেটলেট ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে থাকলেও যদি রক্তপাত ঘটে তবেই প্লেটলেট দেওয়া হবে। চিকিৎসকের নিদানপত্রে প্লেটলেট গ্রুপের উল্লেখ থাকতে হবে। সরকারি ব্লাডব্যাঙ্কগুলিতে এবং স্বাস্থ্য জেলায় প্লেটলেট সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে বলেও উল্লেখ রয়েছে গাইডলাইনে। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইনে অনেক কিছুই বলা থাকে, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তার কিছুই দেখা যায় না-এর অসংখ্য উদাহরণ আছে। সঙ্কটের সময়ে আদৌ প্লেটলেটের সরবরাহ কতটা বাস্তবায়িত হবে সেটাই প্রশ্ন।
কলকাতা সহ জেলা শহরগুলিতেও নানা প্রান্তে বাড়ছে ডেঙ্গু মশা। কলকাতা পৌরসভার সার্ভে বলছে বিভিন্ন এলাকায় পড়ে থাকা পরিত্যক্ত গাড়িতে মশার জন্ম হচ্ছে, বিশেষ করে থানাগুলির সামনে। এর মধ্যে তপসিয়া, বালিগঞ্জ ও ভবানীপুরের কথা উল্লেখ করে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছেন কলকাতার মেয়র। ভুক্তভুগী কলকাতাবাসীর বক্তব্য, যে পৌরসভার নিজেরই নজরদারি নেই, তারা আবার থানাকে বলছে ব্যবস্থা নিতে। এলাকায় এলাকায় জমে থাকা জল চটজলদি সরানোর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নিয়মিত পরিষ্কার হয় না নর্দমায় পড়ে থাকা জঞ্জাল, খালি জমিতে জমা জল। বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলি গলি ঘুরলেই তা মালুম হবে। শুধু মশারি টাঙানোর সতর্কবার্তা জারি করেই কর্তব্য শেষ করছেন মেয়র। (সৌজন্যে: আনন্দবাজার অনলাইন)

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও