রাজস্থানের এক মুসলিম পরিবারে আইএএস আইপিএস সহ ১২ অফিসার!

 

সাফল্যের পথে প্রথম পা’টা বাড়িয়ে ছিলেন লিয়াকত খান। রাজস্থানের ঝুনঝুনুর নুয়া গ্রামে প্রথম যখন স্কুল তৈরি হয়, তখন আশপাশের গ্রামের ছেলেমেয়েরাও ওই স্কুলে পড়তে আসতো। সেই স্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন লিয়াকত। জীবনের মূল মন্ত্র করে সাফল্যের পথে পা বাড়িয়ে দিয়ে ছিলেন লিয়াকত। তারপর না তাকে পিছনে ফিরে দেখতে হয়েছে,না তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। একে একে ১২ জন অফিসার হয়েছেন লিয়াকতের পরিবারে। কেউ আইপিএস কেউ আইএএস, কেউ ডিআইজি কেউবা কর্নেল।
সেই পরিবার গল্প শোনালেন সেই পরিবারেরই এক সদস্য নয়িম আহমেদ খান। নয়িম নিজেও ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার হিসাবে অবসর নিয়েছেন। নয়িম জানিয়েছেন লিয়াকত খান ১৯৭২ সালে রাজস্থান পুলিশ সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেন। পরবর্তীকালে তিনি আইপিএস হয়ে আইজি হিসাবে অবসর নেন। ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যানও ছিলেন লিয়াকত। ২০২০ সালে তিনি ইন্তকাল করেন। এখন তার ভাই, ছেলে, বৌমা, ভাইপো ভাইপোর বৌ ,ভাই ঝি কমবেশি সকলেই অফিসার হয়ে তাক লাগাচ্ছেন।
এলাকার অন্যান্য পরিবারের কাছে তারা যেন ‘অফিসার পরিবার’। লিয়াকত খানের ছোট ভাই আশরাফ হোসেন রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে সুযোগ পান১৮৮৩ সালে। ২০১৬ তিনি আইএএস হন। বড় ভাইদের পথে হেটে লিয়াকত খানের আরও এক ছোট ভাই জাকির খানা আইএএস অফিসার হয়েছেন২০১৮ সালে। লিয়াকত খানের পুত্র শাহিন খান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করেন এখন চিপ মেডিক্যাল অফিসার। এর আগে তিনি অশোক গেহলট-র ওএসডি ( অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) ছিলেন। লিয়াকত আলীর বৌমা মনিকা খান জয়পুরের ডিআইজি। আবার লিয়াকত খানের ভাইপো শাকিব খান ও ভারতীয় সেনার ব্রিগেডিয়ার। আরোও এক ভাইপো সেলিম খান ডেপুটি সেক্রেটারি (শিক্ষা)। সেলিম খানের স্ত্রী সানা খানও রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের এক অফিসার। ওই পরিবারেই সদস্য ফারাহ খান রাজস্থানের দ্বিতীয় মুসলিম মহিলা আইএএস। ফারহার স্বামী কামরুল জামান চৌধুরীও আইএএস অফিসার। ওই পরিবারের আরোও দুই সদস্য জাভেদ খান ইসরত খান রাজস্থান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ও ভারতীয় সেনার কর্নেল পদে আসীন। নুয়া গ্রামের মানুষজনও আশপাশের অন্যান্য গ্রামের মানুষজনদের কাছে অনুপ্রেরণা লিয়াকত খানের পরিবার।
(সৌজন্যে: পূবের কলম)

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও