সিএজি রিপোর্টে ফের বেআব্রু ‘উন্নয়ন’

 

নির্বাচনে মোদীর ছবি দিয়ে কম খরচে আম আদমির বিমান পরিষেবার নিয়ে বড় বড় হোর্ডিংয়ে ঢাউস সব বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গিয়েছিল দেশের বড় বড় শহর। দাবি ছিল, প্রায় প্রতি শহরে গ্রামে গড়ে উঠবে বিমানবন্দর। তাতে ‌আঞ্চলিক রুটে অহরহ উড়ান (বিমান) চলবে। আঞ্চলিক রুটে এই বিমান পরিষেবার গালভরা নাম দেওয়া হয়েছিল ‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক।’ মোদী প্রথম ক্ষমতায় এসেই ঢাকঢোল পিটিয়ে ২০১৬ সালে এই বিমান পরিষেবা প্রকল্প চালু করে। সাত বছর পেরিয়ে দেখা গেল, মুখ থুবড়ে পড়েছে আম আদমির বিমান পরিষেবা প্রকল্প। সম্প্রতি সিএজি অসামরিক বিমান বিমান পরিষেবা নিয়ে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে প্রকল্পের ভেঙে পড়া চিত্র ধরা পড়েছে। সিএজি তার রিপোর্টে জানিয়েছে, এই উড়ান প্রকল্পে যে সব আঞ্চলিক রুটে সাধারণ মানুষের জন্য বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তার ৯৩ শতাংশ রুটেই কোনও বিমান চালানো সম্ভব হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত অধিবেশনে সংসদে পেশ হওয়া এই সিএজি রিপোর্টে কম খরচের বিমান পরিষেবাকে ‘ভালো প্রকল্পের উদ্যোগ’ বলা হলেও তা রূপায়ণে সরকারের ‘সদিচ্ছার অভাব’ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক রুটে যদিও বিমান যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি। যেমন আঞ্চলিক রুটে উড়ান প্রকল্পে ৭৭৪ রুটে বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ বা ৪০৩ রুটে বিমান বন্দর থেকে বিমান পরিষেবার অন্যা ন্য পরিকাঠামো কিছুই গড়ে ওঠেনি। বাকি ৩৭১ রুটের মধ্যে ৩০ শতাংশ বা ১১২ রুটে বিমান পরিষেবা পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৪ রুটে বা ৭শতাংশ রুটে বিমান চলাচল চালু হয়েছে। ফলে দেখা গেছে ৯৩ শতাংশ রুটেই কোনও বিমান পরিষেবা চালু করা যায়নি। সিএজি তার রিপোর্টে জানিয়েছে, অসামরিক বিমান পরিবহণ দপ্তরের এই প্রকল্প নিয়ে পর্যালোচনা করা দরকার। আদৌ এই জাতীয় প্রকল্পের আর্থিকভাবে কার্যকারিতা আছে কিনা তা রুট ভিত্তিক খতিয়ে দেখা দরকার।

 

এদিকে, আঞ্চলিক রুটে বিমান পরিষেবার মতো হেলিকপ্টার পরিষেবা গড়ে তোলা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মোদী সরকার। সেই লক্ষ্যে হেলিকপ্টার পরিষেবায় যুক্ত বেসরকারি সংস্থার কাছে আঞ্চলিক রুটে হেলিপ্যাড নির্মাণ নিয়ে প্রস্তাব চাওয়া হয়। সেই প্রস্তাব জমা পড়ে অসামরিক বিমান পরিষেবা ও এয়ারপোর্ট অথরিটির কাছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব আজও খতিয়ে দেখা হয়নি। সিএজি জানিয়েছে, আঞ্চলিক রুটে হেলিকপ্টার পরিষেবা চালুর ক্ষেত্রে তার উপযোগী পরিষেবা নির্মাণ এবং আর্থিকভাবে লাভজনক কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। এক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
মোদীর উড়ান প্রকল্প নিছক চমক ছাড়া কিছু নয় বলেই জানিয়েছেন বিরোধী নেতা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি বলেন, মোদী প্রথম ক্ষমতায় আসার সময় ঘোষণা করেছিলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যারা চপ্পল পরে ট্রেনে বাসে যাতায়াত করেন তাদের জন্য কম খরচে এবারে বিমান পরিষেবা চালু করা হবে। ‘উড়ে দেশ কে আম নাগরিক’ নামে আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা চালুর কথা ঘোষণ করে দেওয়া হলো। ৭ বছর পেরিয়ে গেছে। আর দশটা প্রতিশ্রুতির মতো এটাই আরও একটি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি হয়েই রইল। তিনি বলেন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আমরা বলছি না, সিএজি নিজে তার রিপোর্টে জানাচ্ছে, প্রকল্পের ৯৩ শতাংশ রুটেই কোনও বিমান পরিষেবাই চালু করা যায়নি। মানে সাত বছরে শুধু ৭শতাংশ রুটেই পরিষেবা চালু করতে পেরেছে ‘সব কুছ মুমকিনের’ সরকার। গণশক্তি

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও