স্ত্রীকে গ্রামবাসীদের সামনে নগ্ন করে প্যারেড করাল স্বামী

রাজস্থানের প্রতাপগড় জেলার ধারিয়াবাদে এক আদিবাসী মহিলাকে নগ্ন করে প্যারেড করানোর অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধেই। শুক্রবার এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার মর্মান্তিক ভিডিওতে, নির্যাতিত মহিলার অভিযুক্ত স্বামীকে এক ২১ বছর বয়সী মহিলাকে তাঁদের বাড়ির বাইরে বের করে দিতে এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করার সাথে সাথে তাঁকে নগ্ন করতে দেখা যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এরপর, ওই অবস্থায় তাঁকে গ্রামের মধ্যে এক কিলোমিটার দৌড়তেও বাধ্য করা হয়।
পুলিশের মতে, ওই মহিলার অন্য একব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ছিল, যার ফলে তার ওপর হামলার সূত্রপাত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলার স্বামী সহ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজস্থানের মহাপরিচালক (ডিজিপি) উমেশ মিশ্র বলেছেন, বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি অন্য পুরুষের সাথে বসবাস করছেন বলে অসন্তুষ্ট, মহিলার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে অপহরণ করে এবং তাঁদের গ্রামে নিয়ে যায় যেখানে তাঁকে মারধর করা হয় এবং নগ্ন করে প্যারেড করানো হয়।
তিনি আরো জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য ছ’টি দল গঠন করা হয়েছে এবং প্রতাপগড়ের পুলিশ সুপার অমিত কুমার গ্রামে ক্যাম্প করছেন, শীর্ষ পুলিশ জানিয়েছেন।
এসপি অমিত কুমার জানান, দেড় বছর আগে ওই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে হয়। এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেছেন, সভ্য সমাজে এই ধরনের অপরাধীদের কোনও স্থান নেই। বৃহস্পতিবার, গভীর রাতে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন ওই মহিলা। এরপর এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এতে ১০ জনের নাম রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট গভীর রাতে একটি টুইটে ঘটনার নিন্দা করে বলেছেন, “প্রতাপগড় জেলায়, শ্বশুরবাড়ির সাথে পারিবারিক বিবাদের কারণে একজন মহিলাকে তার শ্বশুরবাড়ির দ্বারা নগ্ন করার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে৷ পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এডিজি ক্রাইমকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। সভ্য সমাজে এধরনের অপরাধীদের কোনো স্থান নেই। এই অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব কারাগারে পাঠানো হবে এবং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচার করে শাস্তি দেওয়া হবে।”
এদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কংগ্রেসের অন্যান্য মন্ত্রীদের উপর তীব্র আক্রমণ করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেছেন, “শাসক দল দলীয় বিবাদ মীমাংসা করতে ব্যস্ত”৷ তিনি বলেন,”মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি রাজ্যে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে। রাজস্থানের জনগণ রাজ্য সরকারকে শিক্ষা দেবে।” প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শেষেই নির্বাচন হওয়ার কথা রাজস্থানে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক্স-এ জেপি নাড্ডা লিখেছেন, “রাজস্থানের প্রতাপগড়ের ভিডিওটি মর্মান্তিক। রাজস্থানের শাসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা দলগত বিবাদ মীমাংসা করতে ব্যস্ত, এবং বাকি সময় দিল্লিতে একটি রাজবংশকে খুশি করতে ব্যয় করছেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই  রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে৷ প্রতিদিনই মহিলাদের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনা ঘটছে৷ রাজস্থানের মানুষ রাজ্য সরকারকে শিক্ষা দেবে”।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন। ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিশন রাজস্থানের ডিজিপিকে এই বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে এবং পাঁচ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও