রাজস্থানে স্টাফদের জল খাওয়ার জন্য দলিত ছাত্রকে লাঠি দিয়ে মারলেন শিক্ষক

রাজস্থানের ভরতপুরে এক শিক্ষক ৭ম শ্রেণির এক দলিত ছাত্রকে স্কুলের কর্মীদের জন্য রাখা জল থেকে জল খাওয়ার জন্য ঘুষি মারেন ও লাঠি দিয়ে তার গায়ে আঘাত করেন। ঘটনাটি শুক্রবার ঘটে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা শনিবার সকালে স্কুলে হামলা চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে। এরপর বয়ানা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

বয়ানা থানার এসএইচও সুনীল কুমার জানিয়েছেন, ঘটনাটি বয়ানা শহরের ভীমনগর সরকারি উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। শনিবার, ভুক্তভোগী ছাত্রের ভাই রণ সিং (১২) এর পক্ষে, অভিযুক্ত শিক্ষক গঙ্গারাম গুর্জারের বিরুদ্ধে জাত সম্পর্কিত শব্দ দিয়ে তাকে অপমান করার এবং তাকে লাঞ্ছিত করার জন্য একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ছাত্রের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত করছেন ডেপুটি এসপি নীতিরাজ সিং শেখাওয়াত। বর্তমানে শিক্ষক গঙ্গারামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সংবাদমাধ্যমকে জানান, “গতকাল (শুক্রবার) সকাল ৭টায় স্কুলে আসি। নামাজ শেষে ক্লাসে বসলাম। তারপর ওয়াটার ক্যাম্পার গাড়ি এল। শিক্ষকদের জন্য ক্যাম্পার থেকে জল নিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন শিশু জল ছিটিয়ে দেয়। স্কুলের ট্যাঙ্কে জল ছিল না। তাই দুই সহপাঠী শিক্ষকদের জন্য রাখা ক্যাম্পার থেকে জলের বোতলে ভরেছিল। ওদের দেখাদেখি আমিও বোতলে জল ভরে খেলাম। এর পর স্যার (গঙ্গারাম গুর্জর) আমাদের তিনজন ছাত্রকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে ক্যাম্পার থেকে জল পান করালেন। তিনি অন্য দুই ছাত্রকে বসিয়ে, আমাকে মারার জন্য ক্লাসের একটি ছেলেকে লাঠি আনতে বললেন। এর পর তিনি আমাকে মারধর করেন”।
ভীমনগর পাহাড়িয়া আম্বেদকর কলোনির বাসিন্দা রান সিং বলেন, আমার বাবা ২০১২ সালে সিলিকোসিস রোগে মারা যান। এক বছর পরে, ২০১৩ সালে, মা টাইফয়েডে মারা যান। সেই থেকে আমি আমার ছোট ভাইকে মানুষ করছি। সে ৭ম শ্রেণীতে পড়ে। শুক্রবার স্কুলে গেলে কর্মীদের জন্য রাখা জল খাওয়ার জন্য তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গঙ্গারাম শিশুটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে ও ঘুষি মেরেছে। পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শুক্রবার দুপুর ১টায় ছোট ভাই স্কুল থেকে বাড়ি এসে পুরো ঘটনা খুলে বলে। এরপর শনিবার সকাল ৭টায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক রামকুমার শর্মা ও শিক্ষক নবল কিশোর আমার বাড়িতে আসেন। তিনি দুই লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
শনিবার সকাল ১০টায় পাহাড়িয়া আম্বেদকর কলোনির শতাধিক মানুষ স্কুলে পৌঁছয়। তাদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক মহিলাও ছিলেন। সেখানে স্কুল শিক্ষক গঙ্গারাম গুর্জারের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি ও মারপিট হয়। খবর পেয়ে বয়ানার এসএইচও সুনীল কুমার পুলিশের ইউনিফর্মে স্কুলে পৌঁছন। পুলিশের সামনেই ফের শিক্ষককে মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।এরপর, পুলিশ তাঁকে জনতার কবল থেকে মুক্ত করে থানায় নিয়ে যায়। যার পরে, বিক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বয়ানা রাজ্য সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে। তবে, পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর পর ভীম আর্মির লোকজনও থানায় পৌঁছে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে।

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও