পাঞ্জাবের ডিবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে প্রতারণার অভিযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের

 

পাঞ্জাবের দেশ ভগত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বিশ্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে অবস্থান বিক্ষোভ করেন কয়েক ডজন শিক্ষার্থী। পরে, পাঞ্জাব সরকারের কাছ থেকে ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পরে, বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেন তাঁরা। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান ডিবিইউকে তাদের প্রতিটি নথিভুক্ত শিক্ষার্থীকে তাঁদের যে হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে এবং স্থানচ্যুতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১০ লাখ টাকা প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, ডিবিইউকে পরবর্তী কোনো কোর্সে কোনো শিক্ষার্থীকে নথিভুক্ত না করারও নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় এক মাস ধরে, ডিবিইউতে নার্সিং শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন, তাদের অ্যাডমিশন অন্য একটি কলেজে স্থানান্তর করার জন্য যার আইএনসি এবং পিএনআরসি থেকে অনুমোদন নেই। একইসঙ্গে, অবিলম্বে একটি নিবন্ধিত কলেজে তালিকাভুক্তির দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের উদ্বেগের কথা জানালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া আসেনি। তাঁরা বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতারিত হয়েছি।  আমরা স্ট্রেসড এবং ট্রমাটাইজড। আমরা জানতাম না যে বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের এমন একটি কলেজে স্থানান্তর করবে যা নিবন্ধিত হবে না। আমরা শুধু একটি রেজিস্টার্ড কলেজে ভর্তির দাবি করছি এবং আমরা চাই না বিশ্ববিদ্যালয়ের দোষে আমাদের কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হোক”।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ডিবিইউ তাঁদের সম্মতি ছাড়াই সর্দার লাল সিং মেমোরিয়াল কলেজে বিভিন্ন প্যারামেডিক্যাল কোর্সে নথিভুক্ত প্রায় ৭০ জন কাশ্মীরি শিক্ষার্থীকে স্থানান্তরিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই একতরফা পদক্ষেপ গত বছর শুরু হয়, যখন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ভর্তি সংক্রান্ত বিপর্যয়ে জড়িয়ে পড়ে।

এক শিক্ষার্থীর মন্তব্য অনুযায়ী, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সোচ্চার হয়ে আসছি। এটা প্রথমবার নয় যে আমরা এখানে প্রতিবাদ করেছি বা আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। গত বছর থেকে এটা ঘটছে যখন আমরা জানতে পেরেছিলাম যে যে কলেজে আমাদের স্থানান্তর করা হয়েছিল সেটি ইন্ডিয়ান নার্সিং কাউন্সিল (আইএনসি) এবং পাঞ্জাব নার্সেস রেজিস্ট্রেশন কাউন্সিল (পিএনআরসি) এর অধীনে অনুমোদিত নয়”।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা করার সময় তাদের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে এমনকি গালিগালাজও করে।
আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা সহিংসতা ও হামলার শিকার হয়েছিলাম। ভাইস চ্যান্সেলর সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা আমাদের নির্মমভাবে মারধর করেছে। পাঞ্জাব পুলিশ লাঠিচার্জ করেছিল এবং এমনকি স্থানীয় গুন্ডাদেরও ডেকেছিল আমাদের মারধর করার জন্য”। ওই ছাত্রী আরো বলেন, “আমাদের জামাকাপড় ছিঁড়ে গিয়েছিল। আমরা মুসলিম, আমাদের মাথা থেকে জোর করে হিজাব টেনে নেওয়া হয়।  আমাদের লাঞ্ছিত করা হয় এবং চরিত্র হরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে”।
শিক্ষার্থীদের মতে, ২০২০ শিক্ষাবর্ষে, তাঁরা যথাযথ ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ডিবিইউতে বিভিন্ন চার বছরের প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের প্রথম বর্ষের শুরুতে, ক্লাস এবং ক্লিনিকাল প্রশিক্ষণ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্য একসাথে পরিচালিত হয়েছিল।  যাইহোক, প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে, শিক্ষার্থীদের জানানো হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই ব্যাচের ছাত্রীদের আলাদা করে অন্য কলেজে, সরদার লাল সিং মেমোরিয়াল কলেজে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের সম্মতি না নিয়ে বা বিবেচনা না করেই নেওয়া হয়।

সূত্র: মকতুব মিডিয়া

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও