হাসপাতালে না গিয়ে ওঝার কাছে, মৃত্যু হল দুটি তরতাজা প্রাণের

 

যুগ এগুচ্ছে কিন্তু মানুষের সচেতনতা বাড়ছে না। এখনো সেই আগের যুগের মতো অনেকে ওঝায় বিশ্বাস করে। আর এর ফলে মরতে হচ্ছে। এই কুসংস্কারের শিকার হল দুই। বিষধর সাপের কামড়ে রোগীকে ওঝার বাড়িতে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর ফলে আট বছরের শিশু ও ৫০ বছরের গৃহবধূর মৃত্যু হলো। এই ঘটনায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে মাটিয়া থানার অন্তর্গত কচুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবিলা গ্রামে। মৃত গৃহবধূর নাম আলেয়া বিবি। আট বছরের শিশুর নাম তৌরব মন্ডল। আলেয়া বিবির পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ঘরে শুয়ে ছিলেন। বিষধর সাপ ঘরের মধ্যে ঢুকে কামড়ে চলে যায়। এরপর আলেয়া বিবিকে নিয়ে দেগঙ্গার নন্দীপাড়া এলাকায় ওঝার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওঝা কিছু করতে না পারায় শেষমেশ বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে শুক্রবার সন্ধ্যায় আলিয়া বিবিকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে বাবা মায়ের সঙ্গে ঘরে খাটে শুয়েছিল তৌরব। এরপর কিছু একটা তার হাতে কামড়ে চলে যায়। ভোরবেলা থেকে হাতে জ্বালা শুরু হয়। তখন তার বাবা তাকে নিয়ে দেগঙ্গায় এক ওঝার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ঝাড়ফুঁক করে কাজ না হলে বারাসাত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১১ টা নাগাদ বারাসাত জেলা হাসপাতালে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
ওই গ্রামে সাপের কামড়ে আরো দুজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে ওঝা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে বাড়ি রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে গোটা এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। সেই কারণে গোটা গোবিলার মানুষ সাপের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। গত কয়েক মাসে প্রায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আজও গ্রামে-গঞ্জে সাপে-কাটা রোগীকে ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। মনোরোগীর চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যাওয়া হয় তান্ত্রিকের কাছে। নানা রকম চিকিৎসার জন্য পরানো হয় মন্ত্রপূত শিকড়বাকড়ের মালা। একমাত্র সচেতনতার অভাবে গ্রামবাংলায় গোটা দেশ জুড়ে কুসংস্কার যে কী ভয়ঙ্কর ভাবে বাসা বেঁধে আছে এই ঘটনায় বোঝা যায়।
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ এই অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে সচেতনতা প্রসারের কাজ করে আসছে। কিন্তু এই অন্ধকার থেকে মুক্তির আশা মেলেনি। কবে কুসস্কারাচ্ছন্নতা দূর হবে তাও জানা যাচ্ছে না।

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও