“শিক্ষক ছাত্রদের এক সহপাঠীকে আঘাত করতে বলছেন কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের! এটাই কি মানসম্মত শিক্ষা?” প্রশ্ন  সুপ্রিম কোর্টের

 

সম্প্রতি মুজাফফরনগর জেলার একজন শিক্ষিকা তাঁর ছাত্রদের তাদের সাত বছর বয়সী মুসলিম সহপাঠীকে চড় মারার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সোমবার ওই মামলায় উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার এবং পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের
বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং পঙ্কজ মিথালের একটি বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার অধিকার আইনের বিধানগুলি মেনে চলার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশের সরকারের পক্ষ থেকে একটি “প্রাথমিক ব্যর্থতা” রয়েছে। উল্লেখ্য, এই আইনটি ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বর্ণ, ধর্ম বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য ছাড়াই মানসম্পন্ন, বিনামূল্যে এবং বাধ্যতামূলক শিক্ষা প্রদানের সাথে সম্পর্কিত।
বিচারপতি ওকা বলেন,“এটি খুবই গুরুতর বিষয়”। তিনি আরও বলেন,“শিক্ষক ছাত্রদের সহপাঠীকে আঘাত করতে বলছেন কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের!  এটাই কি মানসম্মত শিক্ষা? শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব রাজ্যকেই নিতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে তা রাজ্যের বিবেককে ধাক্কা দেবে।”
এই মামলার দ্রুত তদন্ত চেয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানির সময় শীর্ষ আদালত এই পর্যবেক্ষণ করেছে।
সোমবারের শুনানিতে, শীর্ষ আদালত উত্তরপ্রদেশ সরকারকে বিষয়টি তদন্ত করতে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসের একজন সিনিয়র অফিসারকে নিয়োগ করতে বলেছে।
বিচারপতি ওকা মৌখিকভাবে বলেছেন, যেভাবে একটি প্রথম তথ্য প্রতিবেদন(এফআইআর) দাখিল করা হয়েছিল তা নিয়ে শীর্ষ আদালতের “গুরুতর আপত্তি” রয়েছে। শীর্ষ আদালত বলেছে যে, এফআইআরে শিশুর বাবার তোলা অভিযোগ এবং ভিডিওর প্রতিলিপি নেই। বেঞ্চের মতে, “অভিযোগ সঠিক হলে, এটি একজন শিক্ষকের দ্বারা প্রদত্ত সবচেয়ে খারাপ ধরণের শারীরিক শাস্তি হতে পারে, যেহেতু শিক্ষক অন্য ছাত্রদের ভুক্তভুগীর উপর হামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন”।
উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ দাবি করেছেন, মামলার সাম্প্রদায়িক দিকটি “আনুপাতিকভাবে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে”। এই বিষয়ে বিচারকরা দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বেঞ্চ জানিয়েছে,”কোন শিক্ষার্থীকে শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্গত বলে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা হতে পারে না”।
বেঞ্চ যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে ওই মুসলিম ছাত্র এবং অন্যান্য ছাত্রদের, যাদের তাকে চড় মারতে বলা হয়েছিল, তাদের পেশাদার কাউন্সেলিং প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছে। বেঞ্চ আরও বলেছে,”রাজ্য ওই ছাত্রের একই স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আশা করতে পারে না।”
প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে, ত্রিপ্তা ত্যাগী নামে পরিচিত একজন শিক্ষিকাকে মুজাফফরনগরের খুব্বাপুর গ্রামের নেহা পাবলিক স্কুলের ছাত্রদের মুসলিম ছাত্রকে আঘাত করতে বলতে দেখা যায়। ত্যাগী শিশুদের কাঁদতে থাকা ছাত্রটিকে আরও জোরে আঘাত করার জন্য উত্সাহিত করেন এবং বলেন যে সমস্ত মুসলিম ছাত্রদের একটি পাঠ শেখানো উচিত। এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং বহু মানুষ ওই শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। এই ঘটনায় আহত মুসলিম ছাত্রের বিবৃতি এবং তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ত্যাগীর বিরুদ্ধে আইপিসি ধারা ৩২৩ (আঘাত ঘটানো) এবং ৫০৪ (শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান)-এর অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।

সূত্র: মকতুব মিডিয়া

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও