পাঞ্জাবের রেললাইনে প্রতিবাদ কৃষকদের: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ১৯টি কৃষক-শ্রমিক সংগঠন

পাঞ্জাবের ১৯টি কৃষক-শ্রমিক সংগঠন তাঁদের দাবি নিয়ে আজ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ করেছেন। ইতিমধ্যেই, পাঞ্জাব জুড়ে রেললাইনে আন্দোলনে বসেছেন কৃষকরা। রেলওয়ে ট্র্যাক অবরোধ হওয়ার পরে, দিল্লি থেকে অমৃতসর, পাঠানকোট থেকে অমৃতসর এবং পাঞ্জাব থেকে চণ্ডীগড় পর্যন্ত রেল চলাচল ব্যহত হয়েছে।
অন্যদিকে, হরিয়ানার কৃষকরাও পাঞ্জাবের কৃষক গোষ্ঠীকে সমর্থন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কৃষকরা রেললাইনের কাছে ভিড় জমাতে শুরু করেন। পাঞ্জাবের কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তাঁরা তিনদিন ধরে আন্দোলন করার জন্য পুরো প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন। খাবার, পানীয় ও বসার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কৃষকরা ট্রলিতে ঘুমানোর জন্য গদিও এনেছেন।
উল্লেখ্য, কৃষকদের ১৯টি দল ১৭টি জায়গায় রেলপথ অবরোধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মোগা রেলওয়ে স্টেশন, অজিতওয়াল, ডগরু, হোশিয়ারপুর, গুরুদাসপুর, ডেরা বাবা নানক, জলন্ধর ক্যান্ট, তারন তারান, সাঙ্গুরুর সুনাম, পাতিয়ালার নাভা, ফিরোজপুরের বাস্তি টাঙ্কানওয়ালি, মল্লানওয়ালা, বাথিন্ডার রামপুরা ফুল, দেবীদাসপুরা, মাজিথা, অমৃতসর, ফাজিলকা, আহমেদগড়, মালেরকোটলায় আগামী তিন দিন এই বিক্ষোভ চলবে।
পাঞ্জাবের সমর্থনে আসা হরিয়ানার কৃষক নেতারা বলেছেন, ইতিমধ্যেই হরিয়ানায় পদযাত্রা চলছে। যদি পাঞ্জাবে কৃষকদের প্রতি অবিচার করা হয় বা পুলিশ কোনো শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করে, তাহলে, হরিয়ানার কৃষকরাও পাঞ্জাবের দিকে যাত্রা করবে। এরপর, ব্যাপকভাবে আন্দোলন শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, কৃষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রেল চলাচল ব্যাহত হতে পারে। যারা ইতিমধ্যে ট্রেনের টিকিট বুক করেছেন তাঁরা সমস্যায় পড়তে পারেন। প্রতিদিন ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বাসে যাতায়াত করতে হতে পারে।
কৃষকদের অভিযোগ, বন্যা ও বৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষককে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি। যারা পেয়েছেন তাঁরা খুবই কম পেয়েছেন। কৃষক সংগঠনগুলোর দাবি, কৃষকদের প্রতি একর অন্তত ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া, বন্যায় ক্ষতির জন্য কেন্দ্র সরকারের উচিত পাঞ্জাবকে ৫০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া।

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও