প্যালেস্তাইন মুক্ত হবেই, স্লোগান উঠল আমেরিকার রাস্তায়

 

ইজরায়েলকে সাহায্য অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধে সাহায্য করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইজরায়েলের চালানো ৭৫ বছরের দখলদারির বিরুদ্ধে নিজের দেশেই মিছিল ঠেকাতে পারল না আমেরিকা। বিভিন্ন শহরে হয়েছে প্যালেস্তাইনের মুক্তির দাবিতে মিছিল। উঠেছে রাজনৈতিক সমাধানের দাবি।

আমেরিকায় যদিও রবি এবং সোমবার মিছিল করেছেন ইজরায়েলের সমর্থকরাও। তার একটিতে অংশ নেন মার্কিন সেনেটের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ন্যান্সি পেলোসি। মার্কিন সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস বা এপি জানাচ্ছে, বেশ কিছু জায়গায় পরস্পর বিরোধী মিছিল মুখোমুখি চলে আসায় উত্তেজনাও সৃষ্টি হয়। যদিও বড় কোনও সংঘর্ষ ঘটেনি।

এপি জানাচ্ছে, নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দপ্তরের কাছে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায় ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের সমর্থকদের মধ্যে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের অফিসের অদূরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন প্যালেস্তিনীয় আমেরিকানরা। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বহু সাধারণ মানুষও।

ঠিক এই জমায়েতের উল্টোদিকে, ইজরায়েলের পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখান অপর একদল মানুষ। সেই জমায়েতেও আমেরিকান ইজরায়েলিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ছিল। প্যালেস্তিনীয়দের অভিযোগ, হঠাৎ রাস্তা পেরিয়ে এসে ইজরায়েলের পতাকা হাতে একদল উত্তেজিত মানুষ তাঁদের উপর চড়াও হয়। প্যালেস্তাইনের সমর্থকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। ইজরায়েলের সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁদের হাত থেকে ইজরায়েলের পতাকা কেড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। দুই পক্ষকেই সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দপ্তরকেও কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়।

সারা বিশ্ব থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন টাইমস স্কোয়ারে ঘুরতে আসেন। সেই পর্যটকদের মাধ্যমে এই বিক্ষোভ এবং পালটা বিক্ষোভের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের অফিসের সামনের বিক্ষোভে সামিল ছিলেন প্যালেস্তিনীয় যুব আন্দোলনের কর্মী মুনির আটাল্লা। তিনি এপি’কে জানিয়েছেন, ‘‘যখনই প্যালেস্তাইনের উপর হামলা হবে, তখনই বিশ্বের সমস্ত প্রান্ত গর্জে উঠবে। আমরা গোটা বিশ্বের সামনে আমাদের সংহতির এই উদাহরণ রাখতে চাই।’’

নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি অ্যাটলান্টা শহরেও বিক্ষোভ হয়েছে। অ্যাটলান্টার ইজরায়েলি উপদূতাবাসের সামনে শতাধিক জনতা বিক্ষোভ দেখায়। তাঁরা অবিলম্বে ইজরায়েলে মার্কিন সাহায্য পাঠানো বন্ধের দাবি জানান। যদিও এই বিক্ষোভেরও পালটা জমায়েত করেছেন ইজরায়েলকে সমর্থনকারী জনতা।

অ্যাটলান্টা’র প্যালেস্তাইনপন্থী বিক্ষোভে সামিল পার্টি ফর সোশালিজম অ্যান্ড লিবারেশনের অ্যানি বেলোকুরা এপি’কে জানিয়েছেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে ইজরায়েল যেই বিদ্বেষমূলক নীতি নিয়ে চলছিল, তারফলে একদিন না একদিন এই পালটা আক্রমণ হতোই।’’

শিকাগো শহরেও প্যালেস্তাইনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকশো বিক্ষোভকারী প্যালেস্তাইনের পতাকা, সাদা কালো চেক স্কার্ফ বা কেফিয়ে পরে বিক্ষোভ দেখান। এই জমায়েত থেকে প্যালেস্তাইনের স্বাধীনতার দাবি ওঠে। ইংরেজির পাশাপাশি আরবি ভাষায় স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। স্লোগান উঠল, প্যালেস্তাইন মুক্ত হবেই। (সূত্র: গণশক্তি)

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও