নিউজক্লিক মামলায় ২৫ জন সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ; এখনও পর্যন্ত ক্লিন চিট দেওয়া হয়নি কাউকেই

 

সোমবার দেশে “দেশবিরোধী” এজেন্ডা চালানোর অভিযোগে অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত মামলার বিষয়ে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল প্রায় ২৫ জন সাংবাদিক এবং নিউজক্লিকের অবদানকারীদের দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সিয়াসত ডেইলি তাদের সূত্রের খবর হিসেবে এমনটাই জানিয়েছে।
ওই পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন কর্মকর্তা বলেছেন, মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং এখনও পর্যন্ত কাউকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যেই, ৯ জন মহিলা সাংবাদিক সহ প্রায় ৪৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল ৩অক্টোবর। একইসঙ্গে, ওই দিন স্পেশাল সেল দিল্লি এবং এনসিআরের ওয়েবসাইটের সাথে সংযুক্ত বেশ কয়েকটি ঠিকানাতেও অভিযান চালায়।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা সিয়াসত ডেইলিকে জানিয়েছেন,“গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সবাইকে দ্বিতীয় দফা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ জন এ পর্যন্ত হাজির হয়েছেন”।
এর আগে, ৩ অক্টোবর, দিল্লি পুলিশ নিউজক্লিক পোর্টালের প্রধান সম্পাদক প্রবীর পুরকায়স্থ ও এইচআর প্রধান অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে এবং নিউজক্লিকের অফিস ও এর সাংবাদিকদের বাসভবন থেকে ৩০০-রও বেশি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট বাজেয়াপ্ত করে। সিয়াসত ডেইলি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন আধিকারিক বলেছেন, এই গ্যাজেটগুলিকে এফএসএল (ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাব)-এ পাঠানো হয়েছিল বিষয়টি সম্পর্কিত কোনও বিষয়বস্তু পরীক্ষা করার জন্য।
দিল্লি পুলিশের রিমান্ড কপি অনুসারে যা ৪ অক্টোবর পুরকায়স্থ এবং চক্রবর্তীকে হাজির করার সময় আদালতে জমা দেওয়া হয়েছিল, ই-মেইলগুলির বিশ্লেষণে দেখা যায় যে নেভিল রায় সিংহম, প্রবীর পুরকায়স্থ এবং অমিত চক্রবর্তী একে অপরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন এবং কাশ্মীর ছাড়া কীভাবে ভারতের মানচিত্র তৈরি করা যায় এবং অরুণাচল প্রদেশকে বিতর্কিত এলাকা হিসেবে দেখানোর বিষয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। রিমান্ড কপিতে বলা হয়েছে, “উপরের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিদেশী তহবিলের ছদ্মবেশে পিপিকে নিউজক্লিক, জিএসপ্যান ইন্ডিয়া, জে জে এন্টারপ্রাইজেস, ভার্চুনেট সিস্টেম নামে কোম্পানিগুলিতে ১১৫ কোটি টাকার বেশি টাকা পেয়েছে”।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার আদালতের দেওয়া পুরকায়স্থ ও চক্রবর্তীর সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষ হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হতে পারে এবং আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) তাদের রিমান্ড বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন। দিল্লি পুলিশ এই বিষয়ে সন্ত্রাসবিরোধী বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের ১৩, ১৬, ১৭, ১৮ এবং ২২ ধারা এবং ১৫৩এ(দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার করা) এবং ১২০বি(অপরাধী ষড়যন্ত্র) ধারার অধীনে মামলা নথিভুক্ত করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও