বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জাতিসঙ্ঘে গাজায় যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাস

 

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের মধ্যে অবিলম্বে মানবিক অস্ত্র বিরতির আহ্বান সংবলিত একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। ১৯৩ সদস্যের পরিষদে ২২টি আরব দেশের আনা প্রস্তাবটি ১২০-১৪ ভোটে পাস হয়েছে। ৪৫টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল না ভোট দেয়। উল্লেখ্য, সাধারণ পরিষদে ভেটোর কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে নিরাপত্তা পরিষদের মতো এখানে কোনো প্রস্তাব পাস হলে তা কার্যকর করার কোনো ব্যবস্থাও নেই।

ভোটের আগে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি বলেন, এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়া মানে ‘যুক্তিহীন যুদ্ধকে, এই যুক্তিহীন হত্যাকাণ্ডকে অনুমোদন করা।’ ইসরাইল এই ভোটাভুটিকে ‘কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করে।

সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস বাধ্যবাধকতাহীন হলেও এটি বৈশ্বিক জনমতের ব্যারোমিটার হিসেবে কাজ করে। গাজায় ইসরাইলের নৃশংস হামলার প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে বৈশ্বিক জনমত ফিলিস্তিনিদের সাথে থাকার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠেছে।
জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় ইসরাইলি হামলা থামাতে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ পরিষদে এই প্রস্তাব পাস হলো। নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের প্রস্তাবে ভেটো দিলে তা ভণ্ডুল হয়ে যায়।

সাধারণ পরিষদে শুক্রবার পাস হওয়া প্রস্তাবে ‘অবিলম্বে টেকসই ও স্থায়ী মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়, যা বৈরিতার অবসান ঘটাবে।’ এতে ‘ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে বাধ্যতামূলকভাবে উচ্ছেদের যেকোনো প্রয়াস দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়।’

এতে যুদ্ধ আরো বিস্তৃতি এড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়, গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যেসব দেশ : যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেশিয়া, ফিজি, গুয়েতেমালা, হাঙ্গেরি, ইসরাইল, মার্শাল আইল্যান্ড, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরো, পাপুয়া নিউ গিনি, প্যারাগুয়ে ও টোঙ্গা।

ভোট দানে বিরত ছিল ৪৫টি দেশ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে : অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, ভারত, ইরাক, ইতালি, জাপান, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইডেন, তিউনেশিয়া, ইউক্রেন, যুক্তরাজ্য।

এ দিন কানাডা ওই প্রস্তাবে একটি সংশোধন এনে হামাসের নিন্দা করার কথা জুড়তে চেয়েছিল। কিন্তু তা দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় গৃহীত হয়নি।

সূত্র : আল জাজিরা, টাইমস অব ইসরাইল

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও