৪৮ দিন পর মৃত্যুর ভয় ছাড়াই ঘুমিয়েছে গাজাবাসী

 

যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজাবাসী সাত সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঘুমের মধ্যে নিহত হওয়ার ভয় ছাড়াই রাত পার করেছে।
শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আল-জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস থেকে বলেছেন, আজ গাজার নারী ও শিশুরা স্বস্তিতে রাত পার করেছে।

মাহমুদ বলেন, ‘৪৮ দিনের মধ্যে এটি প্রথম রাত, যেসময়ে তারা অবিশ্বাস্য বিমান হামলা এবং বোমা হামলায় মৃত্যুর ক্রমাগত ভয় ছাড়াই ভালো ঘুমিয়েছে।’

মাহমুদ আরো বলেন, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও, শুক্রবার উত্তর থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল এবং উত্তর ও দক্ষিণ গাজাকে আলাদা করে ইসরাইলের সামরিক লাইন অতিক্রম করে বাড়ি ফেরার চেষ্টার সময় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিল।

এদিকে হামাস-ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধে চার দিনের বিরতি চলছে। এর প্রথম দিনেই ইসরাইলের কারাগার থেকে ‘৩৯ নারী ও শিশু’ মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার।

এর আগে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে ১২ থাই ও ১৩ ইসরাইলি নাগরিককে মুক্তি দিয়েছে গাজার নিয়ন্ত্রণে থাকা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

জানা গেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ১৪ হাজার ৮৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৮ হাজারেরও বেশি শিশু এবং নারী। আহত হয়েছে ২৮ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ।

গত মাস থেকে অবরুদ্ধ ছিটমহলে ইসরাইলের অবিরত বিমান ও স্থল হামলায় হাসপাতাল, মসজিদ এবং গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

ইসরাইলি সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে ঘোষণা করে। এর প্রতিরোধে পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল।

এক বিবৃতিতে হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দেইফ বলেন, গত শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে ইসরাইলে পাঁচ হাজার রকেট বর্ষণের মাধ্যমে ‘অপারেশন আল-আকসা স্ট্রম’ শুরু হয়েছে। এ সময় ইসরাইল গাজা থেকে অনুপ্রবেশের কথা স্বীকার করে।

বস্তুত, ১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম এত বড় মাত্রার যুদ্ধ শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে।
সূত্র : আল-জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও