রামের কপিরাইট বিজেপি’কে কেউ দেয়নি

 

জয়শঙ্কর পান্ডে
সমাজবাদী পার্টির নেতা

জনসঙ্ঘ, বিজেপি’র কোনও ইশ্‌তেহারে আগে রামমন্দিরের কথা ছিল না। রামমনোহর লোহিয়া ১৯৫৯, ১৯৬২ সালে চিত্রকূটে রামায়ণ মেলা করিয়েছিলেন। রামের কপিরাইট বিজেপি’র না। বিজেপি মনে করছে রাম ওদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। তা তো নয়। কিন্তু সেটা তো জনতাকে বুঝতে হবে। এই জনতা তো ধর্মান্ধ হয়ে গেছে। ট্রাস্টের লোকেরা এসে মন্দির বানানোর জন্য আমার থেকে চাঁদা চাইলো। দিলাম চাঁদা। তখন বলল আসুন ছবি তুলি। আমি বললাম, ছবিতো তুলবো না। কারণ তোমরা রাম নিয়ে ব্যবসা করো। আমার মন্দিরের জন্য চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করার নেই।
মন্দিরের নামে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। এটা উদ্বোধনের পরেও চলতে থাকবে। আমেরিকা, ব্রিটেনেও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বিপুল টাকা তুলছে। সঙ্ঘ পরিবার, বিজেপি’র রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে অযোধ্যায় প্রচার কম। বাইরে জেলায় জেলায়, গ্রামে গ্রামে চাল বিলি করছে। যখনই সেটাকে প্রসাদ বলে বিলি করছে, মানুষের দৃষ্টিকোণ বদলে যাচ্ছে। আমাদের দেশ ধর্মভীরু, ফলে এটা হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার করা হচ্ছে, আমরা রামবিরোধী। রামের বা মন্দিরের বিরোধিতা নয়। বিরোধিতা রামকে নিয়ে রাজনীতির। মানুষকে বোঝাতে গেলে শিক্ষিত করতে হবে। শিক্ষার জায়গাই দখল নিয়ে নিচ্ছে। যা পড়ানো হচ্ছে ওদের বানানো কথা। তার জন্য নয়া শিক্ষানীতি এনেছে। মানুষের মস্তিষ্কের দখল সম্পূর্ণ করতে চায়।

মিডিয়া সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে গেছে। নব্বইয়ের দশকে যখন মন্দির আন্দোলন জোরদার করা হলো, সেই সময়েও আমাদের কথা ছেপেছে। এখন শুধু ওদের কথাই ছাপছে, আমাদের কথাটা মানুষের সামনে আনছে না। আমাদের এখানে বামপন্থী মতাদর্শ, সমাজবাদী মতাদর্শ কেন ফেল করে গেল? কারণ আমাদের কথাটা আমরা মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারিনি। বিজেপি ধর্মের নামে নিজেদের কথাকে মানুষের মধ্যে সহজে নিয়ে যেতে পেরেছে। এমনকি খেলার জগৎকেও ধার্মিকীকরণ করছে এরা। ফৈজাবাদ সরকারি কলেজে তিরন্দাজির জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে। সেটাকেও এরা ধার্মিক করে ফেলেছে। জাতীয় তিরন্দাজি প্রতিযোগিতার পোস্টার করা হয়েছে রাম ধনুক থেকে তির ছুঁড়ছেন! কাবাডি প্রতিযোগিতাতেও এর আগে একই ধার্মিক চেহারা দিয়েছে। আসলে এরা সম্পূর্ণ জনমানসকেই ধার্মিক করতে চাইছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের থাকা এই বাবাদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

এদের সঙ্গে কম লড়াই অতীতে হয়নি। গাধার উপর মাটির মূর্তি বসিয়ে তাতে আমাদের ছবি লাগিয়ে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হতো। সেইসব দিনও তো দেখেছি। উন্মাদী দৌঁড় আসলে এইসব হয়। এটা চিরস্থায়ী হয় না। আজ পর্যন্ত সরকার জমি নীতি ঘোষণা করেনি। এত বড় শহর ভেঙে দিল, কেউ কোনও প্রতিবাদ করলো না। প্রতিবাদ করলেই তো বুলডোজার চলে আসবে বাড়ির দরজায়। জনতাকে পাঁচ কিলো রেশন দিয়ে বন্ধু শিল্পপতিদের আদানি বানাচ্ছে। হাজারো ছোট দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে। যাঁদের বহু বছর ধরে সেই দোকানের উপরে কবজা ছিল। মন্দিরের বাবারা এই দোকানদারদের বিরুদ্ধে মামলা করে সুবিধা করতে পারছিল না। এখন সরকারই দোকান ভেঙে দিয়ে, তাঁদের উচ্ছেদ করে সুবিধা করে দিল। বাড়ির মালিকরা, বাবারা বিরাট টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়ে গেল। বাড়ির মালিকানা তাঁদের নামে ছিল। অন্যদিকে দোকানদাররা প্রায় খালি হাতে রুটি-রুজি হারালেন। ৩০ হাজার কোটি টাকা অযোধ্যায় খরচ হচ্ছে। সব কাজ করছে গুজরাটি ঠিকাদাররা। ট্রাস্ট সঙ্ঘের মজবুত হচ্ছে। হাইগ্রেডের কাজের বরাত দেওয়া হচ্ছে, আর কাজ হচ্ছে নিম্নমানের। তাহলে সরকারের পয়সা কোথায় যাচ্ছে? মন্দিরের নামে যথেচ্ছ লুট চলছে অযোধ্যায়। ২২ জানুয়ারি উদ্বোধনের পর থেকে এরা ঠিক করে রেখেছে ভোট ঘোষণা বা ভোট পর্যন্ত লাগাতার বিভিন্ন রাজ্য থেকে লোক নিয়ে আসবে। যাতে রামমন্দির নিয়ে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকে। সৌজন্যে: গণশক্তি

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও