ইসরাইলের ধ্বংস করা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের নামাজ আদায়

 

গাজায় ইসরাইলের অমানবিক হামলার অবসান হচ্ছে না। এ হামলার কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে মসজিদও। আর তাই ধ্বংসস্তূপেই নামাজ আদায় করতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের।

শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দ্বারা ধ্বংস করা মসজিদের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে গাজার লোকেরা জুমার নামাজ আদায় করেছেন।
সমস্ত গাজাজুড়ে একই চিত্রের বর্ণনা করেছে আল-জাজিরা। তাদের ছবিতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনিরা আল-ফারুক মসজিদের ধ্বংসাবশেষের সামনে শুক্রবার দুপুরের নামাজে অংশ নিচ্ছেন। যে মসজিদটি দক্ষিণ গাজা উপত্যকার রাফাহতে ইসরাইলি হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে।

এদিকে শুধু মসজিদ ধ্বংস নয়, ত্রাণ নিতে আসা ফিলিস্তিনিরাও রেহাই পাচ্ছে না ইসরাইলি বর্বরতা থেকে। বৃহস্পতিবার ভোরে ফিলিস্তিনের গাজায় ত্রাণ নিতে আসা মানুষের ওপর ইসরাইলের হামলায় কমপক্ষে ১১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭৬০ জন।

হামলার আগে গাজা উপত্যকার দক্ষিণে আল-রাশিদ স্ট্রিটে ত্রাণের জন্য ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিরা অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তাদের ওপর বিমান হামলা ও ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করে ইসরাইলি বাহিনী।

তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইসরাইল। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। দেশটি বলছে, ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো আক্রমণের পর ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছে তারা।

হামলার পর ত্রাণ দিতে আসা ট্রাকগুলোকে একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্সের কাজে ব্যবহার করা হয়। হতাহতদের কামাল আদওয়ান হাসপাতাল ও আল-শিফা হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে একসাথে এত মানুষকে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা এই হামলায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে। আর তাদের মধ্যে সাড়ে ১২ হাজারই শিশু। আহত হয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
সূত্র : আল-জাজিরা

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও