শেয়ার বাজারে ধসে চলেছে আদানির মূলধন

 

নড়বড়ে হয়ে রয়েছে শেয়ার বাজার। পরপর সাতদিনে আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজার মূলধন কমেছে।
ফেব্রুয়ারির পর মার্চেও ছোট বাজার মূলধনের সংস্থাগুলির দর নেমে চলেছে। ৫ হাজার কোটি টাকার কম বাজার মূলধন থাকলে সেই সংস্থাকে শেয়ার বাজারে ছোট মূলধনের সংস্থা বলা হয়।
ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৬ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন কমেছে বিভিন্ন ছোট সংস্থার। আদানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় শেয়ার বাজারের স্থিতিশীলতা ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে বাজারে। আদানি গোষ্ঠীর পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ সংস্থা আদানি গ্রিনের শেয়ার কমেছে ১৩ শতাংশ। আদানি এন্টারপ্রাইজ ও আদানি পোর্টস, দুই সংস্থার শেয়ারের দর ৫ শতাংশের বেশি নেমে গিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদানির শেয়ার পরপর ৭দিন নেমে যাওয়া বোঝাচ্ছে অর্থনীতির বিকাশের দাবিতে বিশেষ ভরসা করতে পারছে না বড় বিনিয়োগকারী আর্থিক সংস্থাগুলি। যে কারণে আদানির শেয়ার ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কমছে শেয়ারের দাম।
কম বাজার মূলধনের প্রায় ৮০ শতাংশ সংস্থার শেয়ারের দর কমেছে। শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেবি’ এই স্তরের সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছিল। ফাঁপিয়ে দাম বাড়ানো সম্পর্কে সতর্ক থাকার বার্তাও দেয়। তার পর থেকে কমেছে এই সংস্থাগুলির দাম।
২০২৩’র প্রায় গোটা বছরেই আদানি গোষ্ঠী শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা খেয়েছে। মার্কিন শর্ট সেলার সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টে জানায় যে আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সস্থার শেয়ার দাম প্রায় ৮০ শতাংশ ভাঁড়ানো। আদানি গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি’র ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এই সংস্থায় এলআইসি, স্টেট ব্যাঙ্কের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মোটা টাকা শেয়ারে বিনিয়োগ করা রয়েছে। কমেছে সেই শেয়ারের দামও।

গত সাতদিনে আদানির শেয়ার দর কমেছে। এই সাতদিনে রাজনীতি আলোড়িত হয়েছে নির্বাচনী বন্ডের তথ্যের দাবিতে। স্টেট ব্যাঙ্ক তথ্য চাপার চেষ্টা করলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নথি তুলে দিতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। ১৫ মার্চ তথ্য প্রকাশ করার কথা কমিশনের। আদানির টাকা বিজেপি বা তৃণমূলের তহবিলে কিভাবে গিয়েছে জানতে পারবেন দেশের মানুষ। এই পরিস্থিতির সঙ্গে আদানির পাশ থেকে বিনিয়োগকারীদের সরে যাওয়ার প্রবণতার কোনও সম্পর্ক আছে কিনা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্র: গণশক্তি

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও