আসামে ১০ লাখ ভোটে জয়ী কে এই রাকিবুল হুসেন?

আসামের ধুবড়ি কেন্দ্র এআইইউডিএফ-এর শক্তিশালী ঘাঁটি। আর সেই শক্ত ঘাঁটিতে কংগ্রেসের রকিবুল হুসেস জয়ী হয়েছেন। আসামের লোকসভা আসন ধুবড়িতে নির্বাচনী ফল ছিল একতরফা। ধুবড়ি আসন থেকে কংগ্রেসের রাকিবুল হুসেন ১০,১২,৪৭৬ ভোটে এআইইউডিএফ প্রধান মহম্মদ বদরুদ্দিন আজমলকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন। লোকসভা নির্বাচনে রাকিবুল দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জয়ের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। ভোটের শতাংশের হিসাবে, রাকিবুল ৫৯.৯৯ % ভোট পেয়েছেন। এই নির্বাচনে কংগ্রেস আজমলের দলকে বিজেপির ‘বি’ টিম বলে প্রচার চালাই। সম্ভবত কংগ্রেস এই বার্তাটি ভোটারদের কাছে ছড়িয়ে দিতেও সফল হয়েছে। ফলে এই মুসলিম অধ্যুষিত আসনের ফলাফল হতবাক করেছে। রকিবুল হোসেন মোট ১৪,৭১,৮৮৫ ভোট পেয়েছেন এবং মহাম্মদ বদরুদ্দিন আজমল পেয়েছেন ৪,৫৯,৪০৯ ভোট। আসাম গণপরিষদের জাবেদ ইসলাম ৪,৩৮,৫৯৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। ধুবরি লোকসভা আসনে ৮৬ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল। কংগ্রেস সবসময় ধুবড়ি লোকসভা আসনে আধিপত্য বজায় রেখেছিল। যদিও ২০০৪ সাল থেকে এখানে জয়ী হয়নি। ২০১৯ সালের নির্বাচনে এআইইউডিএফ-এর বদরুদ্দিন আজমল কংগ্রেসের আবু তাহিরকে পরাজিত করেছিলেন। কিন্তু এবার ফের এই আসনটি দখলে নিয়েছে কংগ্রেস। বদরুদ্দিন আজমল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ৭,১৮,৭৬৪ ভোট। যেখানে কংগ্রেসের আবু তাহির পেয়েছেন ৪,৯২,৫০৬ ভোট। আজমল ২ লাখের বেশি ভোটে জিতেছিলেন। তৃতীয় স্থানে ছিলেন এজিপির জাভেদ ইসলাম। তিনি পেয়েছিলেন প্রায় চার লাখ ভোট।

রাকিবুল ২০০১ সাল থেকে কংগ্রেসের হয়ে আসাম বিধানসভার সামাগুড়ি আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তরুণ গগৈ সরকারের স্বরাষ্ট্র (কারাগার এবং হোম গার্ড), সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন, পাসপোর্ট প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসাম সরকারের স্বরাষ্ট্র, রাজনীতি, পাসপোর্ট, হজ, বিএডি, তথ্য প্রযুক্তি, মুদ্রণ এবং স্টেশনারি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তরুণ গগৈর আসাম সরকারের বন ও পরিবেশ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তরুণ গগৈ সরকারের পরিবেশ ও বন, পর্যটন, তথ্য ও জনসংযোগ, মুদ্রণ ও স্টেশনারি মন্ত্রী ছিলেন। আসাম অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হুসেন। ২০১৫ সালে, তিনি অল ইন্ডিয়া ক্যারাম ফেডারেশনের সভাপতি হন। রাকিবুল হুসাইন ১৯৬৪ সালের ৭ আগস্ট প্রয়াত আলহাজ্ব নূরুল হোসেনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। রাকিবুল হুসেন আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। প্রসঙ্গত, ধুবরি জেলা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ কৃষি উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। ধান হল প্রধান ফসল যা এই অঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি প্রদান করে। ধানের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষি ফসল হল পাট, সরিষা, গম, ভুট্টা এবং ডাল। এছাড়াও কাঠ ও বাঁশের মতো অসংখ্য ধরনের বনজ পণ্যও এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি জোগায়।

সর্বশেষ সংবাদ

জনপ্রিয় গল্প

সর্বশেষ ভিডিও